বিপিএর সংবাদ সম্মেলন

ডিম-মুরগির দাম কমায় ছয় মাসে বন্ধ হয়েছে ১০ হাজার খামার

দেশে ডিম ও মুরগির দাম পড়ে যাওয়ায় গত ছয় মাসে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা—এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

দেশে ডিম ও মুরগির দাম পড়ে যাওয়ায় গত ছয় মাসে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা—এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির দাবি, এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিপিএ নেতারা। তারা বলেন, সংকট মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট কোম্পানির উৎপাদন ও কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ব্যবস্থাপনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং একটি জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘দেশে পোলট্রি বাজার একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এই সিন্ডিকেট চাইলেই বাজারে দাম বাড়াতে বা কমাতে পারে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যখন দাম বাড়ে, তখন সরকার নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু দাম পড়ে গেলে প্রান্তিক খামারিদের দুর্দশার বিষয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা থাকে না। মুরগি ও ডিমের দাম কমে যাওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে ভোক্তা স্বস্তি পেলেও যারা খামার পরিচালনা করছেন, তাদের মূলধন, শ্রম এবং স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, অথচ খামারিরা তা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সোনালি মুরগির ক্ষেত্রেও ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। একটি ডিম উৎপাদনে ১০ টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬-৮ টাকায়। প্রতিদিন দেশে গড়ে ৫ হাজার ২০০ টন মুরগি ও চার থেকে সাড়ে চার কোটি ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রান্তিক খামারিরা সরবরাহ করেন প্রায় তিন হাজার টন মুরগি ও তিন কোটি ডিম। প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা ও প্রতি ডিমে ২ টাকা করে লোকসান ধরলে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যার ছয় মাসের হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সংগঠনটি ১০টি দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো: জাতীয়ভাবে একটি পোলট্রি শুমারি পরিচালনা ও ডিজিটাল ডাটাবেজ গঠন করতে হবে; সব খামারি ও ডিলারকে দিতে হবে উদ্যোক্তা আইডি কার্ড; প্রান্তিক খামারিদের জন্য সরকারি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণী সভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে; স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ ও সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে হবে প্রান্তিকদের জন্য; ফিড, ভ্যাকসিন ও ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং সরকারিভাবে ফিডমিল ও হ্যাচারি স্থাপন করতে হবে; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, ল্যাব সুবিধা এবং কোল্ড স্টোর গড়ে তুলতে হবে; স্মার্ট বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং ড্রেসড মিট মার্কেটে তাদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে; নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ডিম ও মুরগি বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে; বাজার ধসসহ সংকটকালে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে; কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালা তৈরি এবং জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিপিএর সহসভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মেজবাউল হক মারুফি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ।

আরও